বুধবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৮

বসবাস

আমার ভেতর বসত করে একটা পশু, একটা মানুষ
পশুটা শুধু তাড়িয়ে বেড়ায় পাপের পথে লিপ্ত হতে
মানুষ আমায় থামায়, বেহুঁশ হয়ে ফিরি যখন, ফিরিয়ে দেয় হুঁশ।

রঙিন জামার রঙিন লোভে অর্থ জমাই, দোকানে যাই
পোশাক হাতে ভাবতে থাকি শ্বেত কাফনের কথা
শূন্য হাতে ফিরি। মানুষ আমায় ফেরায়, পশুটার নেই হুঁশ।

বিলাসবহুল অট্টালিকা গড়বো বলে ফন্দি আঁটি, নকশা আঁকি
ব্যাকুল হয়ে মিস্ত্রি ডাকি, তখন ভীষণ অন্ধকারে কবর-ঘরে
জীর্ণশীর্ণ চিন্তা চাপে, মনে আমার পশু এবং মানুষ।

পুষ্টিপূর্ণ খাবার খেয়ে ব্যস্ত যখন গড়তে শরীর, ঠিক তখনই
মৃত্যু এসে চোখে ভাসে। মাটির স্পর্শে পঁচে যাবে পোকায় খাবে
যেই দেহটা গড়ছি আমি খুব যতনে। মানুষ বুঝে, পশুটা বেহুঁশ।

ফরিয়াদ

পৃথিবীর নিষিদ্ধ পাড়ায় যারা ফেলেছে পায়ের ধুলো, মেখেছে বুকের শ্বাস
নগরনটীর ঠোঁটে, স্বর্গের অপ্সরা তাদের জন্য নয়
এই সব পাপীদের ছুঁড়ে দাও নরকের অঙ্গারে একটু পুড়োক।
যারা দূর্গম পথে গেছে মসজিদে, জায়নামাজে রেখেছে পা, তোমার আরশ
স্মরণে রেখে ঠুকেছে কপালÑ সুবিন্যাস্ত বেহেস্ত তাদের হোক।

মদ-গাজা-হেরোইন যারা খেয়েছে দেদার, নারী নিয়ে নেচেছে উলঙ্গ নৃত্য
তাদের আতিপুতি ভরে যাক গরম গরলে। আনতবদন হুর নয়
সর্বক্ষণ তাদের সঙ্গী হোক দোজখের ভয়াবহ অজগর।
যারা নিজের মুখের গ্রাস দিলো তুলে অনাহারি মুখে, নিজে তৃষ্ণার্ত থেকে
জল দিলো তৃষিতকে; তারা পাক সর্গীয় ফলমূল, দুধের নহর।

যারা তোমার সৃষ্ট জীবে করে দয়া, তোমার দেখানো পথে
হাঁটে অহোরাত। অপরের উপকারে বিলায় জীবন
তারা যেন পায় তোমার দয়ার হাতÑ অন্ধের ছরি।
যারা কূপ খোঁড়েছিল অন্যকে তলিয়ে মারবে বলে, চোরাবালিতে
ডুবে যেতে যেতে তারা যদি চায় আশ্রয়, দিও না তোমার রহমতের দড়ি।

ক্ষমার অধিকার

 যদি এক ঢোক জল দাও তৃষিতের মুখে
একজন আছেন, তোমাকে দেবেন ফোয়ারা ভরা অমৃত সুধা
যদি এক মুঠো ভাত দাও অনাহারীর হাতে
একজন আছেন, মেটাবেন তোমার পাহাড়সমান ক্ষুধা।

যদি একবার ডাকো, তাকে মনে রাখো
সে দেবে তোমায় এমন অনেক কিছু যা দেয়নি কেউ
এতই দয়ালু তিনিÑ থামবে না তার
অপার দানের হাত, তুমি তাকে ভুললেও।

অথচ, যদি লুটে খাও কারও এক-তিল
একজন যে আছেনÑ  তার নেই অধিকার
বিচারদিনে নিবিচারে ছাড়বার
যার ধন লুটে খেলে সে যদি তোমায় না করে ক্ষমা।

জ্বালাই মশাল মানবমনে

কত কথাই তো ভাসে বাতাসে। কাজে আসার যোগ্যটুকু
গ্রহণ করে অবশিষ্ট কথা না শোনাই বিজ্ঞ লোকের ধর্ম
কানকে কখনো চালুনের মতো করো না। ময়দাকে ফেলে
চালুন ভুষি উচ্ছিষ্টকে ধরে রাখে। আনন্দময় জীবন যদি চাও

অল্পে তুষ্ট হও। বাদ দাও অপ্রয়োজনে মানুষের সংশ্রব।
আড়াল করে রাখতে শেখো নিজেকে। মানবসঙ্গ পরিহার,
রিপুর চাহিদা দমন, পার্থিব সম্পদের মোহমুক্তিই
হৃদয়-মন পবিত্র রাখার ব্যবস্থা করে। ফেরাও দৃষ্টিকে

সমস্ত নিষিদ্ধ দৃশ্য থেকে। বিবেক অনুমোদন করে না
এমন কথা মুখে করো না উচ্চারণ। মনের মধ্যে দিও না
বিদ্বেষের স্থান। অন্তরকে রাখো অশালীন চিন্তা থেকে মুক্ত
তোমার চাইতে সুখী কেউ হবে না। সুনামের মোহ

অহংকারের প্রথম ধাপ, মানুষকে যা ধ্বংসের মুখে ঠেলে।
সূচের অগ্রভাগ দিয়ে খুচিঁয়ে পাহাড় ধসিয়ে দেওয়ার চেয়ে
আত্মজ-অহংকার অপসারণ দুঃসাধ্য। অভিযোগ থেকে
জিহ্বাকে বিরত রাখো, পাবে শত্রুবিহীন জিন্দেগী। চলো ভাই

জ্বালাই মশাল মানবমনে। আজ এক হৃদয়ে জ্বাললে আলো
কাল তা ছড়াবে হৃদয় থেকে হৃদয়ে। খুঁজো না অপরের খুঁত,
নিজের চোখে গাঁথা আলপিনটিকে উৎপাটন করো আগে
তবেই অন্যের চোখের কাচপোকাটা বের করতে পারবে।