বুধবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৮

আবাস বদল

আমি তো চলেই যাবো। এই তো দিন, দিন আর...
ভেবে ভেবে গোছাই না অগোছালো আসবাব, থালাবাটি
বিছানার ওলট-পালট চাদর।
আমি তো চলেই যাবো। ¯œানঘরে মেঝেতে শেওলা, টয়লেটে ছত্রাক
বারান্দায় উড়ে আসা ঝরাপাতা যখন কেউ সাফ করতে বলে
আমি বলিÑ বড়জোর দশ কিবা বারো দিন, তারপর
নতুন বাসায় নেবো ঠাঁই।
ভাড়াটে আবাস, লেনাদেনা চুকিয়ে চলে যাবোÑ
কেন তবে এতো দেখশন, অতিরিক্ত কদর...!

পৃথিবীটা  রেস্তোরাঁ, মানুষেরা আশ্রিত পথযাত্রী।
ক্ষণকাল বিশ্রাম শেষে পুনরায় ছুটতে হবে। সবাইকে
নিশ্চিত যেতে হয়; সে কথা ভাবি না।
রেস্তোরাঁর কোন আসবাব, কোন তৈজষ
সাথে নেবার অধিকার ,সামর্থ্য কারও নেই। অথচ দেখো...
জাগতিক সংসার পরিপাটি সাজাতে কতো আয়োজন...!

যে দিন বাসাটা ছাড়লাম, তিন দিন
আগ থেকে প্রস্তুতি। পুটলা-পুটলি বাঁধি, জামা ইস্ত্রি, জুতো কালি
কতো শতো গোছগাছ ; পথের পাথেয় জমাই।
আথচ একদিন দুনিয়ার মায়া ছেড়ে
যেতে হবে চলে, অচেনা সে গন্তব্যে যাবার লাগি
থাকা চাই কিছু প্রস্তুতি, আছে কি সে খবর...!

নামাজির রাজটিকা

ফায়ারিং স্কোয়াডে
সারিবদ্ধ মানুষ এক গুলিতে মরে যেতে দেখেছি।
যদি আল্লার হুকুমে আজরাইল তেমনি চালায় হত্যাযজ্ঞ
সারিসারি নামাজরত লোকেদের মাঝে, সেজদায়
যেতে যেতে গুলিবিদ্ধ সৈনিকের মতো এলোপাথারি
পরে যেতে রাজি আছি।

মসজিদে পাশাপাশি
দাঁড়াতেই মনে হয় যেন প্রতিটা নামাজরত মুসল্লী
ফুল কিংবা মুক্তোদানা। সুঁচ হাতে ফেরেস্তাদের কেউ
সবাইকে এফুড় ওফুড় গেঁথে বাঁধছেন বিশাল মালা।
মালা; নাকি তসবী...! গাঁথা শেষে শোভা পাবে
খোদার গলায়।

কথাটা ভাবতেই
চোখেতে আমার আসে জল। সে জল গাল গড়িয়ে
মসজিদের মেঝেতে পড়ার অপেক্ষায় থাকি। তারপর
দুফোটা কান্না হাতের তালুতে নিয়ে লোশনের মতো মাখি
সারা গায়। কে যেন আমায় বলেছিলÑ চোখের জলেই নেভে
নরকের তীব্রজ্বালা।

অবনত করি মাথা
তার দরবারে, যিনি বিশ্বপ্রতিপালক। মেঝেতে কপাল
ঠুকে কড়া জমে চামড়ায়। আমার কি পাগলামি...! ভাবিÑ
আল্লার কাছ থেকে পাওয়া সেই চিহ্ন, ইতিহাসের
রাজাগণ নিজের আঙুল কেটে সেনাপতির কপালে যেমন
পরিয়ে দিতো রাজটিকা।