বুধবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৮

ভাড়াটে খুনির জবানবন্দি

এক হাতে পিস্তল, অন্য হাতে রামদা
জীবন্ত মানুষ কুপিয়ে করেছি ছাতু
কচু কোপানোর কায়দায়। বাহুতে তখন ছিল বল।
এখন দীর্ঘশ্বাসে ভাবিÑ জগৎ এমন কেন...!
প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে
ফেলে দেয় থুথু মেরে, যেন চুইংগামের কষ।

কিছু সুখস্মৃতি ভুলতে চাইলেও মাছের কাঁটার আদলে
বিঁধে থেকে গলায় অকারণে মনে পড়ে।
মনে পড়ে মিছিলে ককটেল, আদালতে
মিথ্যা জবানবন্দি, সাত খুন মাফ। মন্ত্রী আমায় পরালেন
নিজহাতে ফুলের মালা।
ভাড়াটে খুনি থেকে প্রমোশন পেয়ে
নামিডাকি নেতা, একেই বলে বীরভোগ্যা বসুন্ধরা।

তারপর এই অধঃপতন। পড়ে আছি অসহায়
পাহাড়ি গোহায় আহত সিংহ, বুকভরা
ক্ষত আর ক্রোধ। ক্ষমতা ফুরিয়ে গেলে এমনই কি হয়...!
জগৎ বড়ই রহস্যময়...! হাতি কাদায় দেবে গেলে
চামচিকারাও মারে লাথি। মুমূর্ষু বাঘের লেজ টেনে
ভেংচি কাটে রাঙামুখো বানর।
বীরত্বে পড়ে ভাটা, তেল ফুরালে যেমন
নিভে যায় বাতি। বাঘের বজ্রকণ্ঠ কালান্তে বিড়ালের মিউ...
জগৎ এমন কেন...!

ঈশ্বরের প্রতি করুণা


তোমার একাকিত্বে আমার খুব করুণা হয়, হে ঈশ্বর।

বারান্দায় লোহার খাঁচায়
দুটো পাখি; ঘুঘু প্রজাতির। মাটির হাঁড়িতে বাচ্চা।
দেখতাম পুরুষ পাখিটা ছানাদের খাওয়াতো
খাদ্যনালী থেকে উগলে দানা। কখনো বা স্ত্রী পাখিটাকেও
একই কায়দায়। ঠোঁটে ঠোঁট ঘষার ছলে
পরস্পর মাথার পালকে দিতো আলতো টান।
এক ধরনের বাঁধভাঙা ভালোবাসায়
নেশাচ্ছন্ন হয়ে ভাবতামÑ যখন সংসার হবে,
হবে স্ত্রী-সন্তান, তখন আমিও...

মাস বয়সী ছেলেটা মুখ ডুবায় মাতৃস্তনে।
পিঠ চাপড়ে তাকে
উৎসাহ দেই, শরীরে বুলাই হাত।
বাহুতে বউকে শুইয়ে কপালে খাই চুমু, আর চুলের ফাঁকে
বিলি কাটি। দুজনার দুজোড়া পায়ে বেষ্টনাবদ্ধ
আমাদের সন্তান থাকে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তায়।

জানি, তোমার দৃষ্টির অগোচর
কিছু তো নেই; বাসনা-কাতর চোখে করো উপভোগ
আমাদের প্রেমলীলা। তোমার একাকিত্বে
বড়ো করুণা হয়, হে ঈশ্বর।

মুয়াজ্জিনকে চিরকুট

শুনুন মুয়াজ্জিন সাহেব... সন্ধেবেলায় আমি
আজানের প্রতিক্ষায় থাকি।
আকাশ যখন হয় রক্তিম, নীড়ে ফিরে পাখি, আপনার সকরুণ সুর
ভিষণ মন্ত্রমুগ্ধ করে আমাকে। টিভির ভলিয়ম কমিয়ে
আজানের মায়াময় মূর্ছনায় কান পেতে রাখি।
মাথায় আঁচল তুলতে গিয়েই থামি। মুসলিম মেয়ে হলে
চলতো, আমি তো হিন্দু, লোকেরা ভাববে পাগলামী...!

কিশোরী বয়সে এক মুসলমান ছেলের প্রেমে পড়েছিলাম।
বলতো সে, তার ঘরে বউ হয়ে গেলে পড়তে হবে
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এবং খুব প্রভাতে তিলাওয়াতে-কুরআন।
প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। ভালোবাসার মানুষটির উপদেশ
যতই কঠিন হোক, অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে কে না চায়?
কিন্তুু আমার হলো কই...! ধর্মাশ্রিত সমাজ
বাঁধার দেয়াল তুলে দাঁড়ালো।

এখন মাথায় সিঁদুর, শাখাপরা হাতে
করি অন্যের সংসার। কবুতরগুলো যখন বাকবাকুম ডেকে
খোঁপে ফিরে, বাঁদুরেরা ছুটে খাদ্যের খোঁজে, তুলসীতলায় সন্ধ্যা প্রদীপ
জ্বালাবার আগে; শুনুন মুয়াজ্জিন সাহেব, আমি
আজানের প্রতিক্ষায় থাকি।